মূল সংবাদে যান
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক বছর পর বিচারক পেল সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
এক বছর পর বিচারক পেল সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল

দীর্ঘ প্রায় এক বছর বিচারকশূন্য থাকার পর অবশেষে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক পদায়ন করা হয়েছে। নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করে প্রথম দিনই আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন।

যোগদান শেষে বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তাঁর খাস কামরায় নতুন বিচারককে ফুল দিয়ে উষ্ণ বরণ ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিচার বিভাগের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন পর ট্রাইব্যুনালে বিচারক যোগ দেওয়ায় সাতক্ষীরার সাধারণ বিচারপ্রার্থী মানুষ, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জানা গেছে, নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনের বিচার বিভাগীয় কর্মজীবনের সূচনা হয়েছিল এই সাতক্ষীরা থেকেই। ২০০৬ সালের ১৫ মার্চ সহকারী জজ হিসেবে তিনি সাতক্ষীরায় প্রথম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২৪ নভেম্বর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও তিনি এ জেলায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় দুই দশক পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি পুনরায় সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে ফিরে এলেন।

প্রথম দিনের বিচারিক কার্যক্রমের ফাঁকে স্থানীয় আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করলেও সাতক্ষীরার মানুষের প্রতি আমার বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে। এই আদালতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার মামলা বিচারাধীন। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার পাশাপাশি শিশু আদালত ও মানব পাচার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তিতে আমি বিজ্ঞ আইনজীবীদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করছি।”

উল্লেখ্য, বিচারক না থাকায় দীর্ঘ এক বছর ধরে এই ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কাজে চরম স্থবিরতা ও দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী। বিচারক নিয়োগের দাবিতে স্থানীয় সচেতন মহল ও আইনজীবী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি বিচারক পদায়নের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন করে। পরবর্তীতে ৩০ আগস্ট ‘ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক’ ও ‘মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন পালিত হয়।

সর্বশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাতক্ষীরা সফরে এলে স্থানীয় বিচার বিভাগের এই সংকট ও ট্রাইব্যুনালের বিচারক শূন্যতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। তখন আইনমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বস্ত করেন।

আইনমন্ত্রীর সেই আশ্বাসের মাত্র চার দিনের মাথায়, ১৭ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগ মো. জাকারিয়া হোসেনকে সাতক্ষীরায় পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নিয়মিত বিচার কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘদিনের জমে থাকা মামলাজট নিরসন হবে এবং ভুক্তভোগী বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

সার ডিলারের স্টক রেজিস্টারে গরমিল, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

পরের সংবাদ

দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।